স্মাগলারদের রামরাজত্বে ভয়ংকর দর্শনা
আব্দুস সালাম মিতুল
৩১ জানুয়ারি, ২০২৬, 3:37 PM
আব্দুস সালাম মিতুল
৩১ জানুয়ারি, ২০২৬, 3:37 PM
স্মাগলারদের রামরাজত্বে ভয়ংকর দর্শনা
ভারতের জুরন গেদে এপারের দর্শনা স্টেশন প্লাটফর্মে মালবাহী ওয়াগণ ট্রেন আসতে শুরু হয়ে যায় এই চক্রের দৌরাত্ম। ভারত থেকে ছেড়ে আসা পন্যবাহী কিংবা যাত্রীবাহি ট্রেন স্থলবন্দরে প্রবেশের আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ ও চেকিং সময়ের যাত্রা বিরতিতে দু-দেশের চোরাকারবারির যোগসাজশে ট্রেনের দরজার রাষ্ট্রীয় সিল ও ধাতব সীসা খুলে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, মাদক, স্বর্ণ চোরাকারবারি চলছে দেদারসে। অপেক্ষারত ট্রেনের শেষাংশের দিকে নিরাপত্তা দেওয়ালের সাথে মই লাগিয়ে বেষ্টনীর তার কেটে ফাঁকা করে দেওয়াল টপকিয়ে নিরাপদ ও সহজেই এমন কাজ চলমান রেখেছে চক্রটি।
স্টেশন ইয়ার্ড এলাকায় নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মী বিজিবি ও অন্যান্ন সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে সরকারী লীজকৃত জমি নিয়ে ঐ এলাকায় অনেকেই জড়িয়েছে ব্লাক ব্যাবসায়। জামাল বিহারি ও তার ছেলে আবু সালাম ভন্ডুল কলাবাড়ি ইব্রাহিমপুর এলাকায় কোটি টাকার জমি কিনেছেন কদিন আগেই। সম্প্রতি বাজারে ০৫ টি দোকান কিনেছেন। মাসখানেক আগে ইয়ামাহা এফজেড ভার্সন ফোর হোন্ডাও কিনেছেন। দর্শনার হঠাৎপাড়া এলাকায় ২০ লাখ টাকায় জমি সমেত বাড়িও কিনলেন।
কুষ্টিয়ার বাসিন্দা জয়দা দর্শনা বাজার দোকানদার বাবু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ভারতীয় বিভিন্ন ব্রান্ডের মদের বোতল, ট্যাপেন্ডাসহ গ্রেফতার হয়। সরকারী ডিসিআর মুলে লীজে পাওয়া ০৩ কাঠার ভন্ডুলের বাড়িটি এখন স্মাগলিং ঘাটি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
এসব নিয়ে প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিরাপত্তায় নিয়েজিত কর্মী সুফল বছরখানেক আগে হামলার শিকার হয়ে মারাত্মক আহত হন। ফেনসিডিলের একটি বড়ো চালান উদ্ধারের পাশাপাশি চক্রের দুজনকে থানা পুলিশ আটক করলেও পরে অদৃশ্য তদবিরে মামলা নাকরে মুচলেকায় ছেড়ে দেয় পুলিশ। সাবেক সাংসদ আলী আজগর টগর ও তার ভাই উপজেলা চেয়ারম্যান গোল্ড বাবুর ছত্রছায়ায় মোবারকপাড়ার মান্নান, তোতা, কালু, চন্ডিপুরের সাইদ@ গোল্ড সাইদ সহ অনেকেই অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন। রাজস্ব ফাঁকি, লাগেজ পারাপার, স্বর্ণ ও মাদক পাচারের কার্পাসডাংগা, দামুরহুদা, কুড়ুলগাছি, মদনার চেয়ারম্যানরাও অর্থের কাছে ঝুঁকে পড়েছে নেতিবাচক এসব কাজে। সিএনএফ ব্যাবসায়ী রফিকুল বিগত সময়ে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নিষিদ্ধ আওয়ামিলীগের ওয়ার্ডের প্রভাবশালী নেতা হয়েও এখনও নিয়ন্ত্রণে রেখেছে লাগেজ ব্যাবসা।
ডজনখানেকের বেশি খুনেও টনক নড়েনি প্রশাসনের। দৃশ্যমান দৃষ্টান্ত কিংবা শাস্তি না হওয়াই জনমনে ব্যাপক আতংক। অদৃশ্য শক্তির টার্গেটের কিংবা নির্যাতনের ভয়ে অনেকেই মুখ খোলেনি এমনটাই দাবি সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার ভারত লাগোয়া বসবাসকারী জনসাধারণের। আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যাবহার ও চোরাকারবারি সিন্ডিকেটে নজরদারি বাড়ানো না হলে ঘটতে পারে বড়ো কোন দুর্ঘটনা।